স া
ধ া
রণঅর্থে যেসব স া
র ক ো
ন োজী
বের দেহ থেকে প া
ওয় ায া
য় অর্থ া
ৎ উদ্ভি দ ব াপ্র া
ণ ী
র ধ্ব ং
স া
বশেষ থেকে প া
ওয় াস া
রের
নামই জৈব সার। যেমন গ ো
বর স া
র, সবুজস া
র, খৈল ইত্য া
দি। গ া
ছের প্র া
য় সব খ া
দ্য উপ া
দ া
নই জৈ
ব স া
রে থ া
কে। কিন্তু অতি
আশ্চ র্যে র বিষয় এই যে, জৈ
ব স া
রে ম া
টি ও গ া
ছের জন্য অত্য ন্ত প্র য় ো
জন ী
য় ১৭টি পুষ্টি উপকরণের সবগু
লো
সহ ম া
টির
স্ব া
স্থ ্য রক্ষ া
র দরক া
রি অণুজী
বগু
লোবির া
জম া
ন থ া
কে।
জৈব সার কি?
6.
জৈব সার হলএকধরনের (
কার্বন C) সমৃদ্ধ সার যা প্রা
কৃতিক
ভাবে উপন্ন হয়। সার হল এমন উপাদান যা মাটি ও উদ্ভিদের
পুষ্টি সরবরাহ ও বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়।
জৈব সারের মধ্যে রয়েছে খনিজ উস , সকল প্রাণীর
বর্জ্য,তরলকম্পোস্ট, গুয়ানো, উদ্ভিদ নির্ভর সার যেমন:
কম্পোস্ট, বায়োসলিড। এছাড়াও অন্ যা
ন্ য
অজৈব ও অরাসায়নিক
সার রয়েছে যা জৈব কৃষির মূলনীতি মেনে চলে, যা
বাণিজ্যিক জৈব কৃষিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
জৈব সার হচ্ছে যেসব সার কোন জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত হয়
অর্থা উদ্ভিদ বা প্রাণির ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া যায়। যেমন:
গোবর সার, সবুজ সার, খৈল ইত্যাদি। গাছের প্রায় সব খাদ্য
উপাদানই জৈব সারে থাকে।
জৈব সার
প্যারাগন জৈব সারব্যবহারের উপকারীতা
প্যারাগন জৈব সার ব্য বহ া
রে-
১.ম া
টির পুষ্টি ম া
ন বৃদ্ধি করে ও ম া
টিকে সমৃদ্ধ করে।
২.বেলে ম া
টির প া
নি ধ া
রণ ক্ষ মত াবৃদ্ধি করে এব ংপুষ্টি উপ া
দ া
ন যুক্ত করে।
৩.এটেল ম া
টিকে ঝ
ু রঝ
ু রে করে ও এর ব া
য়ুচল া
চল বৃদ্ধি করে।
৪.সবজিফসলে ম া
লচি ংএর ক া
জকরে।
৫.ভূমিক্ষ য় র ো
ধ করতে সহ া
য়ত াকরে।
৬.ম া
টিতে উপক া
র ীঅনুজী
বের ক া
র্য ক্র ম বৃদ্ধি করে।
৭.ম া
টির পি-এইচ ব ার া
স া
য়নিক বিক্রি য় া
র ম া
ন নিরপেক্ষ র া
খতে সহ া
য়ত াকরে।
৮.পট অথব াটবের ম া
টির সহিত কম্প ো
স্ট ব্য বহ া
র করে চ া
র ার ো
পন কর াহয়।
9.
মাটি একটিঅতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা হচ্ছে কৃষি যা এ মৃত্তিকা সম্পদের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু
দেশের মৃত্তিকা আজ হুমকির সম্মুখীন। অধিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারই এর প্রধান কারণ।
মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মাটির অম্লত্ব পরিবর্তিত হয়ে অনুজীবের কার্যাবলী
ব্যহত হচ্ছে। এতে মাটির উ পাদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ফসল উ পাদনের সঙ্গে মাটির উর্বরতা সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
ৎ ৎ
মাটিকে তখনই উর্বর বলা হবে যখন তাতে কোন উদ্ভিদের পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদান সঠিক পরিমাণ বিদ্যমান থাকে।
অনুর্বর জমিতে ফসলের ফলন হয় কম এবং উর্বর জমিতে ফলন হয় বেশী।
সুতরাং অধিক উ পাদন পেতে হলে মাটির উর্বরতা শক্তি বজায় রাখতে হবে। জৈব পদার্থ হচ্ছে মাটির প্রাণ।
ৎ
জৈব সার গাছের খাদ্য ভান্ডার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা দীর্ঘদিন ধরে গাছ ব্যবহার করতে পারে অর্থা উদ্ভিদের
ৎ
অত্যাবশ্যকীয় সকল পুষ্টি উপাদান জৈব পদার্থে বিদ্যমান।
জৈব পদার্থ মাটিতে ব্যাকটেরিয়া তথা অনুজীবের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং গাছের পুষ্টি উপাদান গ্রহনের উপযুক্ত অবস্থা তৈরী করে অর্থাৎ
জৈব পদার্থ পুষ্টি উপাদান গুলোকে মাটিতে সহজলভ্য করে ও সুষম অনুপাতে থাকতে সহায়তা করে।
গাছের মুখ্য উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার ও ক্যালসিয়াম বেশী পরিমাণে সংযুক্তি করে। তাছাড়া কোন সার প্রয়োগ করলে
তার ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। জৈব সার রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
জৈব সার কেন অপরিহার্য
10.
পানির ধারণক্ষমতা বাড়ায় ফলে সহজেই গাছ মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান গ্রহন করতে পারে।
বেলে ও দোআঁশ মাটিতে পানি ও সারের অপচয় হ্রাস পায় এবং এটেল মাটি ঝুরঝুরা করে।
জৈব সার গাছের বৃদ্ধিকারক হরমোন সরববাহ করে ফলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গরম কালে মাটির তাপমাত্রা কমিয়ে এবং শীতকালে গরম রাখতে সাহায্য করে অর্থা মাটির উত্তাপ
ৎ
নিয়ন্ত্রণ করে।
মাটির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
জমিতে গাছের অনুখাদ্য উপাদানের উ স হিসাবে জৈব সারের ভূমিকা রয়েছে অর্থা মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে গেলে গাছের গৌন পুষ্টি উপাদান সমূহের অভাব দেখা দেয়।
ৎ ৎ
মাটির বুনট উন্নত করে ফলে ভূমিক্ষয় বোধ হয়।
জমিতে কীট নাশক ঔষধ ও রাসায়নিক সারের দ্বারা কোন বিষক্রিয়া সৃষ্টি হলে জৈব সার ঐ বিষক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে।
ইদানিং আমরা রাসায়নিক সারের উপর এতই নির্ভশীল হয়ে পড়েছি যে জৈব সারের কথা কেউ কেউ ভুলেই গেছি।
দেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্য উ পাদন বাড়াতে হবে এবং অল্প জমিতে বেশী ফলন পেতে হলে মাটির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হবে।
ৎ
মাটি তার উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেললে খাদ্য উ পাদনে ভাটা পড়বে এবং ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির সাথে তাল মিলিয়ে বর্ধিত খাদ্য উ পাদনে দারুন সংকট দেখা দিবে।
ৎ ৎ
আর মাটির স্বাস্থ্য ভাল রাখার পূর্বশর্তই হলো জমিতে জৈব পদার্থ ব্যবহার করা।
জৈব সার কেন অপরিহার্য
11.
ফসল উৎ
পা
দনে স া
র একটি গু
রু
ত্ব পূর্ণ উপ া
দ া
ন। স া
রের সুষম ব্য বহ া
রের ওপর নির্ভ র করে ফসলের বৃদ্ধি , বিক া
শ,
দ া
ন া
গঠন, ফ
ু ল ও ফল উৎপাদন, ফলের আকার আক
ৃ তি, দ া
ন া
র পরিপুষ্ট ত াও ফলন।
এমনি অনেক অনিষ্ট ক া
র ীপো
ক া
ম া
কড় ও র ো
গব া
ল া
ইয়ের আক্র মণ র ো
ধ কর ায া
য় সময় মত োসুষম স া
র ব্য বহ া
রের
ম া
ধ্য মে। স া
রের স ং
কট হলে দেশে খ া
দ্য স ং
কট দেখ াদেয়। তখন নিম্ন আয়ের ম া
নুষের কষ্টে র স ী
ম াথ া
কে ন া
। ক া
রণ
এ দেশের ম া
নুষ ত া
দের আয়ের শতকর া৬০ ভ া
গ অর্থ ব্য য় করেন খ া
দ্য ক্র য়ের পেছনে।
ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, উচ্চ ফলনশ ী
ল জা
তের চ া
ষ ও আধুনিক ক
ৃ ষি প্র যুক্তি র দ্রু ত বিস্ত া
রের ফলে স া
র া
পৃথিব ী
তে ব া
ড়ছে র া
স া
য়নিক স া
রের ব্য বহ া
র। সে সময় ফসলের ফলনও ছিল কম। ফলে স া
র াবছরই খ া
দ্য স ং
কট লেগে
থ া
কত। শু
ধু দ া
ন া
শস্য নয়, শ া
কসবজিও ফলমূলেরও এত উৎপ া
দনও ছিল ন াদেশে। বিপুল পরিম া
ণ স া
রের প্র া
য় ৮০
শত া
ং
শ আমদ া
নি করতে হয় বিদেশ থেকে কষ্ট া
র্জি ত বৈদেশিক মুদ্র াখরচ করে।
সার সংকট মোকাবিলা ও জৈব সার
12.
শু
ধু রা
স া
য়নিক স া
রের ওপর নির্ভ র ন াকরে ক
ৃ ষক ভ া
ইদের জৈ
ব স া
র ব্য বহ া
রের ওপর গু
রু
ত্ব দিতে হবে।
প্র তিটি গ্র া
মে ক
ৃ ষক পর্য া
য়ে ভ া
র্মি কম্প ো
স্ট ও ট্র া
ইক ো
কম্প ো
স্ট স া
র উৎ
প া
দনের ব্য বস্থ াগ্র হণ করতে হবে।
ব ো
র োধ া
ন ক া
ট া
র পর আমন র ো
পণের আগে ওই জমিতে জৈ
ব স া
র হিসেবে ধইঞ্চ া
র চ া
ষ করতে হবে।
আমন ধানের জমিতে ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে অ্যাজোলার চাষেও কৃষকদের উসাহিত করতে হবে।
ৎ
এতে র া
স া
য়নিক স া
রের ম া
ত্র া
তিরিক্ত ব্য বহ া
র হ্র া
স প া
বে। জৈ
ব স া
রের ব্য বহ া
র ব া
ড়বে। ম া
টির গু
ণ া
গু
ণ উন্ন ত হবে।
ফসলের স্বাদ বাড়বে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষিত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
এজন্য সরক া
রকে র া
স া
য়নিক স া
রের মত োজৈ
ব স া
র উৎ
প া
দন ও বিপণনে প্র য় ো
জন ী
য় ভর্তু কি প্র দ া
ন করতে হবে।
ধ া
ন ক্ষে তে গু
টি ইউরিয় া ব্য বহ া
রে যেহেতু ২৫ শত া
ং
শ স া
র কম ল া
গে এব ং১৫ শত া
ং
শ ফলন বৃদ্ধি প া
য় ত া
ই এ
প্র যুক্তি র ব্য বহ া
রে ক
ৃ ষকদের মন ো
য ো
গ দিতে হবে। সেইসঙ্গে লিফ ক া
ল া
র চ া
র্ট ব্য বহ া
র করে ধ া
নক্ষে তে ইউরিয় া
স া
র ব্য বহ া
র করতে হবে।
সার সংকট মোকাবিলা ও জৈব সার
13.
ম া
নুষেরম ৌ
লিক চ া
হিদ াপাঁ
চটি। এর একটি হলোখ া
দ্য । আমর াসব া
ই জী
বন ধ া
রণের জন্য প্র তিদিন খ া
ব া
র গ্র হণ
করে থ া
কি। সুস্থ সুন্দ রভ া
বে বেঁচে থ া
ক া
র জন্য য া
র প্র য় ো
জন ী
য়ত াঅপরিস ী
ম; য াআম া
দের দেহের ক্ষ য় পূরণ,
বৃদ্ধি স া
ধন ও র ো
গ প্র তির ো
ধ ক্ষ মত াবৃদ্ধি করে। কিন্তু আমর াপ্র তিদিন যেসব খ া
দ্য গ্র হণ করি ত াকি
আসলেই নিরাপদ? অল্প সময়ে ও অল্প জা
য়গ া
য় অধিক ল া
ভের আশ া
য় বর্ত ম া
নে ক
ৃ ষকর াবিভিন্ন ধরনের
র া
স া
য়নিক স া
র ও ক ী
টন া
শক অধিক ম া
ত্র া
য় ব্য বহ া
র করে থ া
কে। এর ক া
রণ হলোদেশের অধিক া
ং
শ ক
ৃ ষক জা
নেই
ন াযে, র া
স া
য়নিকের স া
রের ক ীধরনের বিরূপ প্র তিক্রি য় ারয়েছে।
তারা অনেকেই মনে করেন প্রচুর পরিমাণে জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলেই অধিক ফসল ঘরে তোলা
সম্ভ ব। কিন্তু ত া
দের এই ম া
ত্র া
তিরিক্ত র া
স া
য়নিক স া
র প্র য় ো
গের ফলে প্র ভ া
ব পড়তে প া
রে ম া
টি, প া
নি,
পরিবেশ, জনস্ব া
স্থ ্য সর্বে া
পরি ম া
টির উর্ব রত া
য়। তবে আশ া
র কথ া
, এই যে, বর্ত ম া
নে অনেক শিক্ষি ত ক
ৃ ষক
এগিয়ে আসছে অর্গ া
নিক ফসল উৎপ া
দন করতে। আর এর একটি অন্য তম ক া
র্য কর অনুশ ী
লন হচ্ছে ক
ৃ ষি খ া
তে
জৈ
ব স া
রের ব্য বহ া
র উত্ত র ো
ত্ত র বৃদ্ধি ।
টেকসই ও নিরাপদ খাদ্ য
উপাদনে জৈ ব সার
14.
জৈব সারকার্বন সমৃদ্ধ, যা প্রাকৃতিকভাবেই উপন্ন হয়ে থাকে। জৈব সার মাটি ও উদ্ভিদের পুষ্টি সরবরাহ ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে।
প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ায় তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।
টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য উ পাদনে জৈব সারের গুরুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ৎ
এটি সাম্প্রতিক কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত এবং বায়োডাইভার্সিটির বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। জৈব সার ব্যবহারে বৃদ্ধি পায় মাটির গুণগত, জলসংগ্রহ, পুষ্টি
সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং জৈব উ পাদনের মাধ্যমে উন্নত খাদ্য সুরক্ষা প্রদান।
ৎ
এছাড়া জৈব সার ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশের জন্য হানি কমে। সৃষ্টি হয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ভবিষ্যতের খাদ্য সুরক্ষা।
মাটির জীববৈচিত্র্য হলো ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, কেঁচো ও মাটির মধ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন উপকারী জীব। বিস্ময়কর তথ্য হলো উপরিস্তরের এক চা চামচ
মাটিতে বহু প্রজাতির ৬০০ কোটির মতো অণুজীব বসবাস করতে পারে।
নিরাপদ খাদ্য বলতে স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্যকে বোঝায়। অর্থা জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করে খাদ্য উ পাদন
ৎ ৎ , সংরক্ষণ, বিপণন, প্রস্তুত ও পরিবেশন করা
হয় তাকে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা বলে। নিরাপদ খাদ্য পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তাছাড়া অনিরাপদ খাদ্য আমাদের শরীরে একদিকে যেমন রোগের কারণ, অন্যদিকে তেমনি স্বাস্থ্যহানির কারণ হিসেবেও বিবেচিত। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার দেয়া তথ্য
মতে, বিশ্বে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে ফুড পয়জনিংসহ ফুড ইনফেকশন সমস্যার সম্মুখীন হয়।
এদের মধ্যে কমপক্ষে ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে মারা যায়। এ সমস্যার একটি সহজ সমাধান হচ্ছে, কৃষিতে জৈব সারের
ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা। কিন্তু অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা লক্ষণীয় যে, জৈব সারে তেমন কিছুই নেই, আর তা ব্যবহার করলে আশানুরূপ
ফলাফল পাওয়া যাবে না।
টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সার
তাছাড়া জৈব সার ব্ য
বহার করে নিরাপদ খাদ্ য
উ পাদন করা গেলে তা বিদেশ রপ্তা
নি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা
অর ্জ
ন করা সম্ভ
ব।
ৎ
উন্ন
ত দেশের মানুষ খুব বেশিই স্বা
স্থ
্ য
সচেতন। তারা তাদের খাদ্ য
তালিকায় অবশ্ য
ই খাদ্ য
নিরাপত্তা
র বিষয়টি সবার আগে গু রু ত্ব
দিয়ে থাকে; যা
আমাদের মতো উন্ন
য়নশীল দেশের জ ন্ য
অনেক বড় একটি সুযোগ হতে পারে।
এর ফলে একদিকে যেমন দেশের অনেক বেকারের কর্ম
সংস্থা
ন সৃষ ্টি
হবে, অন্যদিকে তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধির পথে অন্তত এক ধাপ এগিয়ে
যাবে আমাদের প্রিয় স্বদেশ, পাশাপাশি পরিবেশেরও উন্ন
য়ন হবে।
রেডিও, টেলিভিশন, পত্র
পত ্রি
কায় ও সামাজি ক যোগাযোগমাধ্ য
ম ব্ য
বহার করে নিরাপদ খাদ্ য
উ পাদনে জৈ ব সারের গু রু ত্ব
নিয়ে ব্ যা
পক সচেতনতা
ৎ
গড়ে তুলতে হবে।
অধিকন্তু জৈব সারের ব্যবহার করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করার মাধ্যমে দেশে জৈব ক
ৃ ষির এক অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এসডিজি ২০৩০
বাস্ত
বায়নে ও নিরাপদ খাদ্ য
উ পাদনে জৈ ব সার গু রু ত্ব
পূর্ণ
ভূমিকা পালন করতে পারে।
ৎ
পরিশেষে নিরাপদ খাদ্ য
উ পাদনে জৈ ব সারের ব্ য
বহার রূ পকল্প
২০৪১ বা বাংলাদেশ ভিশন
ৎ -২০৪১ ক ্ষু
ধামুক্ত
, দারিদ্র
্ য
মুক ্ত
এবং উন্ন
ত বাংলাদেশ
বিনির্মা
ণে গু রত্ব
পূর্ণ
অংশীদার হিসেবে কাজ করবে এটাই প্র
ত্ যা
শা।
টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সার
ইউরিয়া সারের কাজঃইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক
সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ইউরিয়া
সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন
সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে।
গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড
উ পাদনে সাহায্য করে থাকে। ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উ পাদনের
ৎ ৎ
মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। কুশি
উ পাদনসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। উদ্ভিদের শর্করা ও
ৎ
প্রোটিন উ পাদনে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব
ৎ
আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে।
সার সাধারণত গাছপালার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে থাকে। বাংলাদেশের কৃষিতে মূলত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি,
জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বরিক এসিড বা বোরন সার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ সারগুলোর কাজ, ঘাটতি বা অভাবজনিত
লক্ষণ,মাত্রা অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
ইউরিয়া সারের কাজঃ
25.
নাইট্রোজেনের অভাবজনিত লক্ষণঃমাটিতে নাইট্রোজেন
পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি বা অভাব দেখা দিলে ক্লোরোফিল
সংশ্লেষণের হার অনেকাংশে কমে যায়। ফলে গাছ তার
স্বাভাবিক সবুজ রং হারিয়ে ফেলে। এছাড়াও পাতার আকার
ছোট হয়ে শাখা প্রশাখার বৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে গাছ খাটো হয়ে
যায়। পাতার অগ্রভাগ থেকে বিবর্ণতা শুরু হয় এবং বৃন্ত ও
শাখা প্রশাখা সরু হয়ে যায়। গোলাপি অথবা হালকা লাল
রঙের অস্বাভাবিক বৃন্ত হয়। পুরাতন পাতার মধ্যশিরার
শীর্ষভাগ হলুদাভ-বাদামি বর্ণ ধারণ করে পাতা অকালেই
ঝরে পড়ে। ফুল ও ফলের আকার কিছুটা ছোট হয়ে ফলন কমে
যায়।
ইউরিয়া বেশি মাত্রায় প্রয়োগের ফলাফলঃ
ইউরিয়া সারের প্রয়োগ মাত্রা বেশি হলে গাছ দুর্বল হয়ে
যায়। গাছে ফুল ও ফল উ পাদন কিছুটা বিলম্বিত হয়ে যায়।
ৎ
এছাড়াও পোকামাকড় ও রোগ আক্রমণের পরিমাণ বেড়ে
যায়। অনেক সময় পাতার অংশ ভারি হয়ে গাছ হেলে যায়।
অতিরিক্ত নাইট্রোজেন প্রয়োগের কারণে অনেক ফল
পানসে হয়ে যায়।
নাইট্রোজেনের অভাবজনিত লক্ষণঃ
26.
টিএসপি, ডিএপি বাফসফেট জাতীয় সারের কাজঃ
টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ডিএপি (ডাই এ্যামোনিয়াম ফসফেট)-এই দুটোই
হলো ফসফেট জাতীয় রাসায়নিক সার। এই সার দুটোতে শতকরা ২০ ভাগ ফসফরাস
থাকে। টিএসপিতে শতকরা ১৩ ভাগ ক্যালসিয়াম এবং ১.৩ ভাগ গন্ধক রয়েছে।
ডিএপিতে ফসফেট ছাড়াও ১৮% নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে যার কারণে ডিএপি সার
প্রয়োগ করলে বিঘা প্রতি ৫ কেজি ইউরিয়া সার কম দিতে হয়।
ফসফরাস জাতীয় সার কোষ বিভাজনে অংশগ্রহণ করে। শর্করা উ পাদন ও
ৎ
আত্তীকরণে সহায়তা করে। গাছের মূল বা শিকড় গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গাছের কাঠামো শক্ত করে গাছকে নেতিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করে থাকে। ফলের
পরিপক্কতা ত্বরান্বিত করে থাকে। ফুল, ফল ও বীজের গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা
করে থাকে।
ফসফরাসের ঘটতিজনিত লক্ষণঃ মাটিতে ফসফরাসের ঘাটতি দেখা দিলে কাণ্ড ও
মূলের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। গাছের শাখা প্রশাখা কুণ্ডলিকৃত বা পাকানো হয়ে যায়।
গাছের পুরোনো পাতা অসময়ে ঝরে পড়ে। ফুলের উ পাদন
ৎ , পার্শ্বীয় কাণ্ড এবং
কুড়ির বৃদ্ধি অনেকাংশে কমে যায়। পাতার গোড়া রক্তবর্ণ বা ব্রোনজ রং ধারণ
করে থাকে। পাতার পৃষ্ঠভাগ নীলাভ সবুজ বর্ণ ধারণ করে এবং পাতার কিনারে
বাদামি বর্ণ হয়ে শুকিয়ে যায়। এছাড়াও গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
ফসফরাসের মাত্রা বেশি হলেঃ ফসফরাস প্রয়োগের পরিমাণ বেশি হলে ফলন কমে
যায়। গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং অকাল পরিপক্বতা পরিলক্ষিত হয়।
টিএসপি, ডিএপি বা ফসফেট জাতীয় সারের কাজঃ
27.
এমপি সার বাপটাশ সারের কাজঃ এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ সারে শতকরা
৫০ ভাগ পটাশিয়াম থাকে। এমওপি উদ্ভিদ কোষের ভেদ্যতা রক্ষা করে।
উদ্ভিদে শর্করা বা শ্বেতসার দ্রব্য পরিবহনে সহায়তা করে। লৌহ ও
ম্যাংগানিজের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। উদ্ভিদে প্রোটিন বা আমিষ উ পাদনে
ৎ
সহায়তা করে থাকে। উদ্ভিদে পানি পরিশোষণ, আত্তীকরণ ও চলাচলে অর্থাৎ
সার্বিক নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে। গাছের কাঠামো শক্ত করে এবং রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নাইট্রোজেন ও ফসফরাস পরিশোষণে সমতা বজায়
রাখে।এমওপি সারের ঘাটতিজনিত লক্ষণঃ গাছে পটাশ সারের ঘাটতি দেখা গেলে
পুরাতন পাতার কিনারা থেকে বিবর্ণতা শুরু হয়। পরে পাতার আন্তঃশিরায় বাদামি
বর্ণের টিস্যু দেখা যায়। এছাড়াও পাতার উপরিভাগে কুঞ্চিত হতে বা ভাঁজ পড়তে
থাকে। গাছ বিকৃত আকার ধারণ করে এবং গাছের ছোট আন্তঃপর্বসহ বৃদ্ধি
কমে যায়। পরবর্তীতে প্রধান কাণ্ডটি মাটির দিকে হেলে পড়ে। গাছে
পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেড়ে যায়।
পটাশের পরিমাণ বেশি হলেঃ জমিতে বা গাছে পটাশ প্রয়োগের পরিমাণ বেশি হলে
ক্যালসিয়াম ও বোরনের শোষণ হার কমে যায়। ফলে বোরনের অভাবজনিত
লক্ষণ দেখা যায়। পানি নিঃসরণের হার কমে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি
অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়।
এমপি সার বা পটাশ সারের কাজঃ
28.
জিপসাম সারের কাজঃজিপসাম সারে শতকরা ১৭ ভাাগ গন্ধক এবং ২৩ ভাগ
ক্যালসিয়াম রয়েছে। জিপসাম বা গন্ধক প্রোটিন বা আমিষ উ পাদনে সহায়তা
ৎ
করে। তেল উ পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গন্ধক ক্লোরোফিল গঠনে ভূমিকা
ৎ
রাখে এবং গাছের বর্ণ সবুজ রাখতে সহায়তা করে। বীজ উ পাদন এবং
ৎ
হরমোনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে।
জিপসামের অভাবজনিত লক্ষণঃ মাটিতে গন্ধকের অভাব হলে গাছের সবুজ বর্ণ
নষ্ট হয়ে কাণ্ড চিকণ হয়ে যায়। গাছের পাতা ফ্যাকাশে সবুজ বা হলুদ বর্ণ
ধারণ করে থাকে।
জিপসাম প্রয়োগের মাত্রায় বেশি হলেঃ জমিতে জিপসাম প্রয়োগের পরিমাণ
বেশি হলে শিকড়ের বৃদ্ধি কমে যায়। ফলে গাছের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম কমে
যায়।
জিংক সালফেট সারের কাজঃ সালফেট ( মনোহাইড্রেটে ) শতকরা ৩৬.০ ভাগ
দস্তা এবং ১৭.৬ ভাগ গন্ধক রয়েছে। অপরদিকে জিংক সালফেট
( হেপটাহাইড্রেটে ) দস্তা ও গন্ধকের যথাক্রমে ২১.০ % এবং ১০.৫%
রয়েছে। এছাড়াও চিলেটেড জিংকে ১০ % দস্তা রয়েছে। জিংক সালফেট
(মোনোহাইড্রেট), জিংক সালফেট (হেপটাহাইড্রেট) সারের তুলনায় বেশি
পরিমাণে মাটিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কোনো কোনো ফসলে স্প্রে করেও এটি
প্রয়োগ করা যায়।
গাছে বিভিন্ন ধরনের হরমোন তৈরিতে দস্তা বা জিংক অংশগ্রহণ করে থাকে।
ক্লোরোফিল উ পাদনে সাহায্য করে থাকে। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
ৎ
বৃদ্ধি করে। শিম জাতীয় সবজির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ফলন বাড়িয়ে থাকে।
29.
জিংকের অভাবজনিত লক্ষণঃমাটিতে দস্তার ঘাটতি দেখা গেলে
গাছের পাতায় তামাটে বা দাগ আকারে বিবর্ণতা পরিলক্ষিত হয়ে
থাকে। পাতা ছোট হয়ে যায় এবং নতুন পাতার গোড়ার দিক হতে
বিবর্ণতা দেখা যায়। বিশেষ করে আন্তঃশিরায় বিবর্ণতা বেশি দেখা
যায়।
জিংক প্রয়োগের মাত্রা বেশি হলেঃ জমিতে জিংকের পরিমাণ বেশি
হলে গাছে বিষক্রিয়া তৈরি হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত দস্তা প্রয়োগে
আমিষ উ পাদন ব্যাহত হয়।
ৎ
বোরন সারের কাজঃ বরিক এসিডে ১৭ % এবং সলুবোর বোরণে
২০% বোরণ থাকে। এটি গাছের কোষ বৃদ্ধিতে এবং পাতা ও ফুলের
রং আকর্ষণীয় করতে সাহায্য করে। পরাগরেণু সবল ও সুস্থ
রাখতে সহায়তা করে। বীজ উ পাদনে সাহায্য করে এবং চিটা হওয়া
ৎ
রোধ করে থাকে। বোরন গাছে ফুল ও ফল ধারণে সাহায্য করে এবং
ফলের বিকৃতি রোধ সহায়তা করে।
বোরনের ঘাটতিজনিত লক্ষণঃ বোরন সারের অভাবে গাছের বৃদ্ধি
কমে যায় এবং গাছে ফুল সংখ্যায় কম আসে। এছাড়াও গাছের
অগ্রভাগ মরে যায়, কাণ্ড কালো বর্ণ ধারণ করে। শিকড়ের বৃদ্ধি
কমে যায়। সবজি বা ফল গাছের ফুল ঝরা বেড়ে যায়। ফল আকারে
ছোট হয় এবং ফেটে যায়। পেঁপে, কাঁঠাল, পেয়ারা ইত্যাদি ফলের
আকার বিকৃত হয়ে অপরিপক্ক অবস্থায় ফল ঝরে যায়।
বোরন প্রয়োগের পরিমাণ বেশি হলেঃ বোরণের প্রয়োগ মাত্রা বেশি
হলে কচি পাতা এবং ডগা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফলন অনেক কমে যায়।
31.
Distributor open formand Document
1.NID Copy-1 , Tread licenses copy-1 , Passport size Pice-2 Copy, Sales form-1.