পরিবেশ বিদ্যা(EnvironmentalStudies):-
পরিবেশ বিদ্যা বা ইনভারমেন্ট স্টাডিজ (EVS) বলতে
বিজ্ঞানের সেই শাখাটিকে বোঝায় যে শাখায় ভৌত বা
প্রাক
ৃ তিক পরিবেশ (Physical Environment), জীবজ
পরিবেশ (Biotic Environment) এবং সামাজিক
পরিবেশের (Social Environment) বৈশিষ্ট্য, পারস্পরিক
সম্পর্ক ও প্রভাবের ভিত্তিতে সমগ্র পরিবেশের প্রক
ৃ তি,
বৈশিষ্ট্য, সমস্যা ও তার সমাধানের বিষয়ে পঠন-পাঠন
আলোচনা করা হয়।
3.
Environment OriginWord & Meaning:
The word is derived from the French word Environer, which means to surround,
enclose or encircle.
আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট 18 শতকের শেষের দিকে তার বিখ্যাত অনুসন্ধান এবং
লেখার মাধ্যমে আধুনিক পরিবেশ বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপনে অসাধারণ অবদানের কারণে
পরিবেশের জনক হিসাবে পরিচিত।
পরিবেশ বিদ্যা বহুমাত্রিক:- পরিবেশ বিদ্যা তার প্রক
ৃ তি ও বিষয়বস্তু অনুসারে বহুমাত্রিক বা
মাল্টি ডাইমেনশনাল বিষয় (Multi-dimentional) | কারণ পরিবেশ বিদ্যার সঙ্গে দর্শন,
আইন, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা জীববিজ্ঞান, ক
ৃ ষি বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ও
ভূগোল, প্রযুক্তি বিদ্যা, সমাজবিদ্যা, সমাজবিদ্যা, নৃতত্ব নৃতত্ব বিদ্যা, গনিত ও সংখ্যাতত্ত্ব বিষয়
সম্পর্ক যুক্ত।
4.
পরিবেশ (Environment):
পরিবেশকথটি পরিবেশ বিজ্ঞানে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। পরিবেশ সংক্রান্ত ধারনা নিয়ে বিভিন্ন
পরিবেশ বিদরা নানা মত প্রকাশ করেছেন। সমগ্র পরিবেশবিদদেরা ধারনা মাথায় নিয়ে
পরিবেশের সুস্পষ্ট ধারনা দেওয়া যেতে পারে- আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা যেমন প্রাক
ৃ তিক
দিক (আকাশ, বাতাস, জল, আলো, মাটি, নদনদী, পাহাড়, পর্বত, মালভূমি) এবং অপ্রাক
ৃ তিক
দিক (রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিল্প কলকারখানা) এর সম্মিলিত অবস্থাকে পরিবেশ বলে।
অর্থাৎ,
উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার
দরকার হয় তাকে পরিবেশ বলেI
5.
পরিবেশ তিনধরনের -
• ১) ভৌত বা প্রাক
ৃ তিক পরিবেশ(Physical Environment):- ভৌত বা প্রাক
ৃ তিক পরিবেশ
বলতে পৃথিবীর সমস্ত জড় ও জীবের উপাদানের সমষ্টিকে বোঝায় | অর্থাৎ জল, বাতাস,
মাটি, আলো, গাছপালা, জীবজন্তু ইত্যাদি সবকিছু নিয়েই হল ভৌত বা প্রাক
ৃ তিক পরিবেশ
• ২) জীবজ পরিবেশ(Biotic Environment):- পার্থিব পরিবেশে মানুষ সহ সমস্ত জীবের
পারস্পরিক সম্পর্ক কে বোঝায় | জীব ও পরিবেশের দুটি প্রধান উপাদান হল উদ্ভিদ ও প্রাণী |
এছাড়াও ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক রয়েছে|
• ৩) সামাজিক পরিবেশ(Social Environment):- এটি হলো মানুষের তৈরি পরিবেশ |
মানুষের রীতিনীতি, আচার ব্যবহার, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষামূল্যবোধ ইত্যাদি সব কিছুর
সমষ্টি হল সামাজিক পরিবেশ। এই পরিবেশের মূল উপাদান হল সংস্কৃ তি (Culture)I
6.
*ভৌত বা প্রাক
ৃতিক পরিবেশ তিন প্রকার- 1) বায়ুমণ্ডল 2) শিলামন্ডল 3) বারিমণ্ডল
*সর্জীব বা জীবজ পরিবেশ:- উৎপাদক, খাদক, বিয়োজক
*সামাজিক পরিবেশ:- গোষ্ঠী, পরিবার, প্রতিষ্ঠান
7.
পরিবেশের উপাদান
পরিবেশেরউপাদানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
A) অজৈব বা অজীবজাত উপাদান (Abiotic Component),
B) জৈব বা সজীব উপাদান (Biotic Component)
8.
A) অজৈব উপাদানঃঅজৈব উপাদান বলতে মূলত আমরা জড় মাধ্যমকে বুঝি আবার বিভিন্ন
উপবিভাগে ভাগ করা যায় যেমন-
i) ভূ-প্রক
ৃ তিক উপাদান: পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, মালভূমি, সমভূমি প্রভৃতির বৈশিষ্ট্য ও প্রক
ৃ তিকে
বোঝানো হয়েছে।
ii) জলবায়ুগত উপাদান: পরিবেশের উপাদানগুলির মধ্যে জলবায়ুর উপাদানগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ,
যেমন - বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুর চাপ, বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ু প্রবাহ, মেঘাচ্ছন্নতা প্রভৃতি।
iii) ভৌত উপাদান: পরিবেশের ভৌত উপাদানগুলির মধ্যে সূর্যরশ্মি, বায়ু, জল, মাটি প্রভৃতি
উল্লেখযোগ্য।
iv) রাসায়নিক উপাদান: পরিবেশের রাসায়নিক উপাদানগুলি মূলত বায়ুমন্ডলে গ্যাসীয় উপাদান
রূপে বিদ্যমান। যেমন - অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, মিথেন, হিলিয়াম, ওজোন, কার্বন-ডাই-
অক্সাইড ও অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস (জেনন, রেডন, ক্রিপটন, আর্গন প্রভৃতি)
9.
B) জৈব বাসজীব উপাদান:
প্রক
ৃ তির বুকে বেঁচে রয়েছে এমন উদ্ভিদ ও প্রানীকে সজীব উপাদান বলে। পরিবেশে সজীব
উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন
10.
1) উৎপাদক বাস্বভোজী (Producer): যারা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে নিজ
দেহে ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে খাদ্য তৈরী করে তাদের উৎপাদক বা স্বভোজী বলে। উদাহরণ- সমস্ত সবুজ
উদ্ভিদ, শৈবাল, এককোষী ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি।
স্বভোজীকে খাদ্য উৎপাদনের ধরন অনুসারে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
সালোকসংশ্লেষ স্বভোজী :যে সব উৎপাদক ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোক
ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় জটিল যৌগ তৈরি করে তাদের সালোকসংশ্লেষ স্বভোজী বলে।
যেমন- সবুজ উদ্ভিদ।
রাসায়নিক সংশ্লেষ স্বভোজী: যে সব উৎপাদক সূর্যালোকের সাহায্য ছাড়াই সরল যৌগকে রাসায়নিক
প্রক্রিয়ায় জটিলতর পুষ্টিযৌগে পরিবর্ত ন করে তাদের রাসায়নিক সংশ্লেষ স্বভোজী বলে। এই প্রক্রিয়াকে
কেমোসিন্থেসিস বলে।
11.
2) পরভোজী: বাস্তুতন্ত্রেরঅন্তর্গত যেসব জীব খাদ্য উৎপাদনে অক্ষম এবং প্রত্যক্ষ ও
পরোক্ষভাবে উৎপাদকের অপর খাদ্যের জন্য নির্ভ র করে বেঁচে থাকে তাদের পরভোজী বা
হেটারোট্রফিক উপাদান বলে।
দুই প্রকার:
* ম্যাক্রো কনজিউমার বা বৃহৎখাদক
* মাইক্রো কনজিউমার বা অনুখাদক
12.
খাদক (Consumer): যেসমস্ত জীব নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরী করতে পারে না, সাধারণত
উৎপাদক বা জৈববস্তু থেকে খাদ্য বা পুষ্টি সংগ্রহ করে, তাদের খাদক বলে।
উদাহরণ: হরিন, বাঘ, গরু, ছাগল, ব্যাঙ, মাছ, মানুষ প্রভৃতি। খাদক প্রানী সম্প্রদায় পুনরায় তিনটি
ভাগেভাগ করা যায় যেমন-
প্রথম শ্রেণীর খাদক (Primary Consumer): সরাসরি উৎপাদক থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে।
উদাহরণ- ঘাসফড়িং, গরু, ছাগল, হরিন প্রভৃতি। এদেরকে অন্য ভাষায় শাকাশী বা তৃণভোজী
(Herbivore) খাদক বলে।
13.
দ্বিতীয় শ্রেণীরখাদক (Secondary Consumer): যে সব জীব গোষ্ঠী প্রথম শ্রেণীর খাদকের
উপর নির্ভ র করে খাদ্য ও পুষ্টি সংগ্রহ করে, তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদক বলে। এদেরকে অন্য
ভাষায় -মাংসাশী (Curnivor) খাদক বলে। উদাহরণ: ব্যাঙ, মাছ, বাঘ, সিংহ, ক
ু মির প্রভৃতি।
তৃতীয় শ্রেণীর খাদক (Tertiary Consumer): যে সব জীব গোষ্ঠী সমস্ত খাদ্যস্তরের খাদ্য ও
পুষ্টিঃ। সংগ্রহ করে, তাদের তৃতীয় শ্রেণীর খাদক বলে। এদের ভাষায় সর্বভূক (Omnivor) খাদক
বলে। উদাহরণ: বাজপাখি, সাপ, মানুষ প্রভৃতি।
14.
বিয়োজক (Decomposer): যেসকল আনুবিক্ষনিক জীব গোষ্ঠী মৃত উদ্ভিদ বা প্রাণীর
দেহাবশেষ থেকে পুষ্টি রস শোষণ এবং জটিল যৌগিকে বিয়োজিত করে, তাদের বিয়োজক
বলে। উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি।
Ecology:-
জীব বিজ্ঞানেরযে শাখায় জীব ও তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক আলোচিত হয় তাকে
বাস্তুবিদ্যা/ইকোলজি বলে। ইকোলজি শব্দটি গ্রিক শব্দ ঐকস (oikos) অর্থাৎ বাসস্থান এবং (logos)
লোগোস অর্থাৎ জ্ঞান এর সমন্বয়ে উৎপত্তি, ইকোলজি শব্দের অর্থ বাসস্থান সম্বন্ধে জ্ঞান।
পরিবেশবিদ ওডাম লিখেছেন "Ecology is the study of Man, Animal, Plants and Organism at
Home."
17.
আন্তঃক্রিয়া দু'ধরনের-
1. অটইকোলজি:-কোন একটি নির্দিষ্ট জীবের সঙ্গে পরিবেশের আন্তঃক্রিয়ার সম্পর্কে র অধ্যায়ন।
2. সিন ইকোলজি:- কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসরত সমস্ত জীবদের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্কে র
অধ্যায়ন।
✓ ইকোলজি কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন আর্নেস্ট হেকেল।
✓ ইকোসিস্টেম কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন এ জি ট্রান্সলে।
✓ ইকোলজির জনক: আলেকজান্ডার ভন হাম্বড।
✓ আধুনিক ইকোলজির জনক হলেন: ইউজিন পি অডাম।
✓ ভারতীয় ইকোলজির জনক হলেন রামেদাও মিশ্রা।
18.
বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem):-
নামকরণ:এ.জি.ট্যান্সলে (1935) সর্বপ্রথম নামকরণ করেন।
শব্দার্থ: Eco-system দুটি পৃথক শব্দ, যেমন 'Eco' অর্থ 'পরিবেশ' এবং 'System' অর্থ 'তন্ত্র'।
সংজ্ঞা: কোন একটি ভৌগলিক পরিবেশে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠী এবং অজৈব পরিবেশের সহিত
আন্তঃ সম্পর্কে র মাধ্যমে গড়ে ওঠে একটি সাম্য ও সুস্থ পরিবেশ তন্ত্র, তাকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
19.
'ইকোটোন' কী?
ইকোটোন(Ecotone) হল দুটি ভিন্ন বায়োম বা বাস্তুতন্ত্রের সীমানায় গড়ে ওঠা ওই দুই বাস্তুতন্ত্রের
মিশ্র অবস্থা। অর্থাৎ প্রাক
ৃ তিক পরিবেশে দুটি পৃথক বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে পরিবর্ত ন ও মিশ্রণের
অবস্থাকে 'ইকোটোন' বলে। যেমন, নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের বাস্তুতন্ত্র এবং মরুভূমির বাস্তুতন্ত্রের
মধ্যবর্তী মিশ্র বাস্তুতন্ত্র হল ক্রান্তীয় সাভানা তৃণভূমি। তেমনি সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র ও স্থলভাগের
বাস্তুতন্ত্রের মধ্যবর্তী ইকোটন হল উপক
ূ ল বাস্তুতন্ত্রI
A B
20.
বাস্তুতন্ত্র দুইপ্রকার:
স্থলজ বাস্তুতন্ত্র: টেরেস্ট্রিয়াল ইকোসিস্টেম এটি আবার বিভিন্ন প্রকার - হতে পারে যেমন: বনভূমির
বাস্তুতন্ত্র, মরুভূমির বাস্তুতন্ত্র ইত্যাদি।
জলজ বাস্তুতন্ত্র: জলজ বাস্তুতন্ত্র আবার তিন প্রকার যথা: পুক
ু রের বাস্তুতন্ত্র, নদ-নদীর বাস্তুতন্ত্র এবং
সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র।
21.
বাস্তুতন্ত্রের শক্তিপ্রবাহ
বাস্তুতন্ত্রেরমূল কাজ হলো শক্তির প্রবাহ
সৌরশক্তি হলো বাস্ত তন্ত্রের শক্তির প্রধান উৎস।
বাস্তুতন্ত্র শক্তির প্রবাহ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
A. শক্তি অর্জন
B. শক্তির ব্যবহার
C. শক্তি স্থানান্তর
22.
বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহতিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়:
খাদ্য শৃংখল(Food Chain)
খাদ্যজাল(Food Web)
খাদ্য পিরামিড(Food Pyramid)
23.
বাস্ততন্ত্রের শক্তিরপ্রবাহ ক্রমান্বয়ে এক স্তর থেকে অন্য খাদ্য স্তরে দেখা যায়।
উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে স্থিতি শক্তি রূপে খাদ্যের মধ্যে সঞ্চয় করে প্রাথমিক খাদক যখন
উৎপাদক উদ্ভিদের খায় তখন তাদের মধ্যে এই শক্তির প্রবাহ ঘটে এবং এবং ক্রমান্বয়ে এই
শক্তি প্রবাহ ঘটতে থাকে।
বিজ্ঞানী লিন্ডম্যান এর মতে এই শক্তির প্রবাহ প্রত্যেক খাদ্যস্তরের 10% হারে প্রবাহিত হয়
একে লিন্ডম্যান এর 10% সূত্র বলে।
24.
বৈশিষ্ট্য:
1. শক্তিরপ্রবহণ সর্বদা একমুখী।
2 উৎপাদক যে শক্তি আন্তীকরণ করে সেই শক্তি কখনও আবার সৌরশক্তি হিসাবে ফিরতে
পারে না। একইভাবে উৎপাদক থেকে শক্তি যখন শাকাশী প্রাণীতে (১ম খাদক) যায়, সেই
শক্তি উৎপাদকে ফিরতে পারে না। এভাবে শক্তি তার পূর্বের খাদ্যস্তরে ফিরতে পারে না।
3. এই শক্তির একমুখী প্রবহণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে যদি প্রাথমিক উৎস অর্থাৎ সৌরশক্তি
সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়।
4. প্রতি স্তরে শক্তির পরিমাণ হ্রাস পাবে কারণ কিছু শক্তি অব্যবহৃতভাবে নষ্ট হয়। কিছু শক্তি
শ্বসনে ও রেচনে নষ্ট হয়।
25.
ট্রফিক লেভেল:খাদ্য শৃংখল এ কোন সদস্য জীব যে খাদ্য তলে অবস্থান করে সেই খাদ্য
তলকে ওই খাদ্যশৃঙ্খলের ট্রফিক লেভেল বলা হয়।
26.
খাদ্যশৃংখল:-
উৎপাদক থেকেক্রমপর্যায় খাদ্য-খাদক সম্পর্কীয় বিভিন্ন প্রাণী
গোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্যশক্তির প্রবাহের ধারাবাহিক পদ্ধতিকে খাদ্য
শৃংখল বলে।
খাদ্যশৃঙ্খলের উদাহরন -
জলজ উদ্ভিদ (ফাইটোপ্লাংটন) -পতঙ্গ -মাছ- মানুষ (জলজ
বাস্তুতন্ত্র)
উদ্ভিদ- হরিন- বাঘ (অরন্যের বাস্তুতন্ত্র)।
27.
খাদ্য শৃঙ্খলেরবৈশিষ্ট্য গুলি হল-
1. খাদ্যশৃঙ্খলের নীচের পুষ্টিস্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শক্তির প্রবাহ একমুখী।
2. খাদ্যশৃঙ্খলের সবচেয়ে নীচের স্তরে থাকে সবুজ উদ্ভিদ।
3. কোনো কোনো খাদ্যশৃঙ্খল সবুজ উদ্ভিদ ছাড়াই শুরু হয়। যেমন পরজীবী ও মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল।
4. খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত জীবের সংখ্যা ও শক্তির পরিমান ক্রমান্বয়ে কমতে
থাকে।
5. যে বাস্তুতন্ত্রে জীববৈচিত্র্য যত বেশি সেই বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের জটিলতাও তত বেশি, এক্ষেত্রে
খাদ্যজাল সৃষ্টি হয়।
6. খাদ্যশৃঙ্খলের জীববৈচিত্র্য অর্থাৎ প্রজাতির সংখ্যা কম থাকে।একটি খাদ্যশৃঙ্খলের পুষ্টিতরের সংখ্যা
তিন থেকে পাঁচের মধ্যে থাকে।
28.
খাদ্য শৃঙ্খলেরশ্রেনীবিভাগ -
খাদ্যখাদকের প্রক
ৃ তির ভিত্তিতে বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদ্যশৃঙ্খল লক্ষ্য করা যায়। যথা -
১. শিকারী খাদ্যশৃঙ্খল :-এই রূপ খাদ্যশৃঙ্খল প্রাথমিক খাদক বা শাখাহারী প্রানী থেকে শুরু হয় এবং
পর্যায়ক্রমে খাদ্য খাদক সম্পর্কে র ভিত্তিতে ক্ষ
ু দ্র থেকে বৃহত্তর মাংসাশীতে স্থানান্তরিত হয়।
উদাহরণ :ঘাস ফড়িং- ব্যাঙ- সাপ- ময়ূর
২. পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল :-এই রূপ খাদ্যশৃঙ্খলে প্রত্যেক পুষ্টিস্তরে জীবের
আকার ক্ষ
ু দ্র থেকে ক্ষ
ু দ্রতর হতে থাকে অর্থাৎ বৃহত্তর জীবকে আশ্র্য করে পরজীবী খাদ্য শৃঙ্খল গঠিত
হয়। এক্ষেত্রে বড়ো জীবকে হোস্ট ও ক্ষ
ু দতর জীবকে পরজীবী বলে।
উদাহরণ: মানুষ- ক
ৃ মি -আদ্যপ্রানী।
৩. মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল :-এরূপ খাদ্যশৃঙ্খলে মৃত ও গলিত জীবদেহ থেকে ক্রমান্বয়ে জীবানুর দিকে
শক্তি প্রবাহিত হয় এবং শক্তি মৃত জীবি ও বিয়োজকের দেহে আবদ্ধ থাকে।
উদাহরণ: মৃত উদ্ভিদ- ছত্রাক- ব্যাকটেরিয়া
29.
খাদ্যশৃঙ্খলের ধরন অনুযায়ীখাদ্য শৃঙ্খলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. চারনভূমি বা গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল:- যে খাদ্যশৃঙ্খল উৎপাদক থেকে
শুরু হয় এবং প্রাথমিক খাদক রূপে তৃণভোজীরা চরে চরে খাদ্য গ্রহন করে, তাকে চারন ভূমি বা
গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
উদাহরণ: ঘাস -হরিন -বাঘ (স্থলভাগ), উদ্ভিদ -পতঙ্গ- মাছ- বক ( - জলভাগ)
২. বিয়োজক বা ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল:- যে খাদ্যশৃঙ্খল অনুখাদক বা বিয়োজক স্তর থেকে
শুরু হয়ে বড়ো প্রানীতে শেষ হয়, তাকে বিয়োজক বা ডেট্রিটাস খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
উদাহরণ: পচা পাতা -লার্ভ া -ছোট মাছ- বড়ো মাছ।
30.
খাদ্যজাল: একবা একাধিক বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন খাদ্য-খাদক
আন্তঃসম্পর্ক যুক্ত জীবের মধ্যে একাধিক খাদ্য শৃংখল গঠিত হয়
তাদের একসঙ্গে খাদ্যজাল বলে।
31.
খাদ্য পিরামিড:কোনবাস্তুতন্ত্রে পুষ্টি গঠনকে ক্রমিক পর্যায়ে সাজালে
গঠিত হয় খাদ্য পিরামিডI
বিজ্ঞানী জি. এলটন (G. Elton, 1939) প্রথম এই খাদ্য পিরামিড এর
ধারণা দেন।
বাস্তুতান্ত্রিক পিরামিড বা খাদ্য পিরামিডের শ্রেণীবিভাগঃ বাস্তুতান্ত্রিক
পিরামিড প্রধানত তিন প্রকারের হয়। যেমন-
1) জীব সংখ্যার পিরামিড (Pyramid of Numbers)
কোন একটি বাস্তুতন্ত্রে প্রতিটি খাদ্যস্তরের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে যত সংখ্যক
জীব পাওয়া যায় তাদের পরপর সাজালে যে পিরামিড পাওয়া যায় তাকে
জীব সংখ্যার পিরামিড বলে। পিরামিডের ভূমিতে অবস্থান করে উৎপাদক বা
সবুজ উদ্ভিদ। পরবর্তী খাদ্যস্তরে (যেমন- প্রথম শ্রেণীর খাদক, দ্বিতীয় শ্রেণীর
খাদক, তৃতীয় শ্রেণীর খাদক) জীবের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। কোন
একটি খাদ্যস্তরের জীবের সংখ্যার ওপর পরবর্তী খাদ্যস্তরের জীবের সংখ্যা
নির্ভ র করে।
32.
2) জীবভরের পিরামিডবা বায়োমাসের পিরামিড (Pyramid of Biomass)
কোন বাস্তুতন্ত্রের নির্দিষ্ট খাদ্যস্তরে অবস্থিত জীবের শুষ্ক ওজনকে জীবভর বলা হয়। খাদ্য শৃঙ্খলের প্রতিটি
স্তরের এই জীবভরকে পরপর সাজালে যে পিরামিড পাওয়া যায় তাকে জীবভরের পিরামিড বলে।
দেখা গেছে, কোন একটি খাদ্য শৃঙ্খলের একটি খাদ্যস্তরের 15 থেকে 20 শতাংশ জীবভর পরবর্তী খাদ্যস্তরে
স্থানান্তরিত হয়। এই কারণে উৎপাদকের তুলনায় প্রথম শ্রেণীর খাদকের জীবভর কম হয় এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর
খাদকের জীবভর প্রথম শ্রেণীর খাদকের তুলনায় কম হয়। যেমন- বনভূমির বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদকের জীবভর
সর্বাপেক্ষা বেশি হয় এবং সর্বোচ্চ স্তরের খাদকের জীবভর সবচেয়ে কম হয়।
33.
3) শক্তির পিরামিড(Pyramid of Energy)
বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক বা সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে নিজেদের মধ্যে আবদ্ধ রাখে। যে
পরিমান শক্তিকে সবুজ উদ্ভিদ নিজেদের মধ্যে আবদ্ধ করে তার কিছু পরিমাণ তার শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া-কলাপের
জন্য ব্যয় করে। কিছু অংশ পরবর্তী খাদ্যস্তরে স্থানান্তরিত হয়। অর্থাৎ উৎপাদকের দ্বারা আবদ্ধ মোট সৌরশক্তি
পরবর্তী খাদ্যস্তরের স্থানান্তরিত হয় না। একটি খাদ্যস্তর থেকে পরবর্তী খাদ্যস্তরে শক্তির স্থানান্তর ৪০ থেকে ৭০
শতাংশ কমে যায়।
34.
বিপরীত পিরামিডঃ
পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খলে দেখা যায়। প্রথম শ্রেণীর খাদক এর তুলনায় দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদকের সংখ্যা বেশি হয় এবং
দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদক এর তুলনায় তৃতীয় শ্রেণীর খাদকের সংখ্যা বেশি হয়। বিভিন্ন পুষ্টিস্তরের খাদকের সংখ্যাকে
পরপর সাজালে স্বাভাবিক পিরামিডের বিপরীত আকার ধারণ করে। একে বিপরীত পিরামিড বলে।
যেমন: মানুষের পেটে পরজীবী রূপে বসবাসকারী ক
ৃ মির সংখ্যা বেশি হয়। তেমনই ক
ৃ মির মধ্যে অবস্থিত
আদ্যপ্রাণীর সংখ্যা ক
ৃ মির তুলনায় বেশি হয়। এই পিরামিডের ভূমিতে জীবের সংখ্যা কম এবং উপরিভাগে বেশি
হয়।
35.
জুসিনোসিস কী?
জুসিনোসিসহল প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের খাদক। জুসিনোসিস (Zoocenosis) বলতে বায়োজিও
সিনোসিসের অন্তর্গত সমস্ত প্রাণী সম্প্রদায়কে বোঝায়, যারা পরস্পর খাদ্যখাদক সম্পর্কে র ভিত্তিতে ক্রিয়া
করে।
মাইক্রোকনজিউমার বা ডিকম্পোজার বা বিয়োজক কী?
বাস্তুতন্ত্রের যে সমস্ত উপাদান মৃতজীবী, অর্থাৎ যারা মৃত উদ্ভিদ ও খাদকদের মৃতদেহ বিয়োজিত করে আবার
সরল রাসায়নিক যৌগে পরিণত করে তাদের বিয়োজক বলে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ইত্যাদি।
বিয়োজকদের ইংরেজিতে 'ডিকম্পোজার' বা 'মাইক্রোকনজিউমার' (Decomposers or Micro consumers)
বলে। এরা অনুজীব।
36.
জীব বিবর্ধন(Bio-Magnification):-
বর্ত মানে আধুনিক সভ্যতায় গুনোত্তর হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য ফসল
উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মশামারার জন্য জলে DDT প্রয়োগ
করা হয়। ক্ষতিকারক ভারী ধাতু পারদ, সীসা ও নানা ধরনের তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রক
ৃ তিতে সঞ্চিত থাকে। পরিবেশে
খাদ্যশৃঙ্খলের ক্রমপর্যায়ে উৎপাদক থেকে খাদ্য-খাদক স্তরে এই সব ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের সঞ্চয়
হওয়ায় জীবদেহে নানা ধরনের অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। এই ভাবে জীবদেহে রাসায়নিক পদার্থের
ক্রমবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে জীব বিবর্ত ন বলে। উদাহরণ: DDT, অলড্রিন, সীসা, পারদ, PCB, BHC, স্ট্রনসিয়াম
প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকারক পদার্থ।
BOD:
সম্পূর্ণ নাম: Biological Oxygen Demand
মূল ধারনা: জলে অবস্থিত বিভিন্ন অনুজীবদের জলেদ্রবীভূত জৈব ও অজৈব পদার্থের বিয়োজনের জন্য
প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমানকে BOD বা জীবের অক্সিজেন চাহিদা বলে। আদর্শ পানীয় জলের BOD =
0.75-1.50 মিলিগ্রাম/ লিটার জল।
37.
সহভোক্তা (Commensalism ) –
এই রকম পুষ্টিতে দুটি জীব সহাবস্থানে থেকেও পরস্পর পৃথক ভাবে পুষ্টি সম্পন্ন করে, যেমন – পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ
রাস্না, গজপিপুল ইত্যাদি। যে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন ধরনের জীব পরস্পরের উপর নির্ভ রশীল হয়ে বসবাস
করে, তাকে মিথোজীবীয় পুষ্টি বলে।
Ex:- Barnacles on back of Whale
38.
MUTUALISM
যখন বিভিন্নপ্রজাতির দুটি জীব "এক সাথে কাজ করে", প্রত্যেকেই সম্পর্ক থেকে উপক
ৃ ত হয়I
Ex:Lichen (Algea+Fungi)
39.
বায়োম:
বায়োম হলবাস্তুতান্ত্রিক একক। পৃথিবীর কোনো বিশাল অঞ্চলে প্রায় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সম্প্রদায় একত্রে
যে সুসংহত জীবন গড়ে তুলে তাকে বায়োম বলে। বায়োমে যারা বাস করে তারা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে
একে অন্যকে প্রভাবিত করে। পৃথিবীর সকল বায়োম বা সজীব বস্তু মিলে গড়ে উঠে জীবমন্ডল। জীবমন্ডল
হলো এক বিশাল বাস্তুসংস্থান যেখানে জীবের সম্মিলিত অস্তিত্ব গড়ে তুলে এক নতুন পরিবেশ।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানা রকম আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রাক
ৃ তিক পরিবেশের
বৈশিষ্ট্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বায়োম গড়ে উঠে। যেমন- অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি ইত্যাদি। বায়োমে অন্তর্ভু ক্ত প্রতিটি
সদস্যের মধ্যে সমতা বজায় থাকে।
40.
ইকোলজিক্যাল নিচ:
প্রথমপুষ্ঠিস্তর ছাড়া খাদক ও বিয়োজকরা খাদ্য খাদক সম্পর্কে র সম্পর্ক অনুযায়ী এক একটি ট্রপিক স্তরে
অবস্থান করে। এরা নিজস্ব ট্রপিক স্তরের মধ্যে কতগুলি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে অর্থাৎ নির্দিষ্ট
কিছু প্রানী বা খাদ্যবস্তুকে পুষ্টি সংগ্রহের জন্য বেছে নেয়। কোনো প্রানীর পুষ্টি। লাভের নির্দিষ্ট এলাকাকে ওই
প্রানীর ইকোলজিক্যাল নিচ বলা হয়।
গ্রিনেল 1917 সালে সর্বপ্রথম ইকোলজিক্যাল নিচ শব্দটি ব্যবহার করেন।
41.
পুক
ু রের বাস্তুতন্ত্র
1.উৎপাদক:সবুজ উদ্ভিদ ও সালোকসংশ্লেষকারী ব্যাকটেরিয়া সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জল ও কাদা থেকে
আহরিত জল ও বিভিন্ন অজৈব উপাদানের সাহায্যে খাদ্য প্রস্তুত করে। উৎপাদক দের গঠন ও প্রক
ৃ তি অনুসারে
প্রধানতঃ দু-ভাগে ভাগ করা যায়।
(A) ম্যাক্রোফাইট: এগুলি সাধারণত বৃহৎ এবং শিকড় সমন্বিত উদ্ভিদ যেগুলি জলের বিভিন্ন তলে দেখা যায়।
(B) ফাইটোপ্লাঙ্কটন: এরা আকারে খুব ক্ষ
ু দ্র এবং জলে ভাসমান অবস্থায় থাকে। ভলভক্স, ডায়াটম প্রভৃতি।
42.
2. খাদক
A) প্রাথমিকখাদক (Primary Consumer): এরা সরাসরি উদ্ভিদ খাদ্য গ্রহণ করে। পতঙ্গ থেকে শুরু করে
বেশ কিছু বড় মাছ এই বর্গের অন্তর্গত। এছাড়াও জলে ভাসমান জুপ্ল্যাঙ্কটন যেমন -ইউগ্লিনা, সাইক্লপস প্রভৃতি
এই বিভাগের অন্তর্গত।
B) গৌণ খাদক (Secondary Consumer): এই প্রাণী প্রাথমিক খাদকদের খেয়ে জীবন ধারণ করে। এর
মধ্যে পতঙ্গ ও মৎস্য জাতীয় প্রাণী প্রধান।
C) প্রগৌণ খাদক (Tertiary Consumer): কিছু বৃহৎ মাছ ও অন্যান্য প্রাণী। এরা তুলনামূলকভাবে ক্ষ
ু দ্র মাছ
ও প্রাণীদের খেয়ে জীবন ধারণ করে।
43.
3. বিয়োজক: এরাপ্রধানত জলের নিচের তলে কর্দমাক্ত অঞ্চলে অবস্থান করে। যেখানে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও
প্রাণীর মৃত ও গলিত দেহাংশ এসে জমা হয়, মৃত দেহাংশকে বিয়োজিত করে নিজেদের পুষ্টি সাধন করে এবং
মৌল পদার্থকে প্রক
ৃ তিতে ফিরিয়ে দেয়।
উদাঃ ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি।
4. নির্জীব পদার্থ: বিভিন্ন ধরনের জৈব ও অজৈব পদার্থ যেমন- জল, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড,
ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, প্রভৃতি এবং এদের বিভিন্ন প্রকারের যৌগ প্রধান। এছাড়াও অ্যামাইনো অ্যাসিড,
হিউমিক অ্যাসিড প্রভৃতি। সূর্য থেকে আগত রশ্মি, তাপমাত্রার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্ত ন, ও বিভিন্ন প্রকারের
আবহওয়া ঘটিত কারণগুলি একটি পুক
ু রের বাস্তুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
44.
অরণ্যের বাস্তুতন্ত্র
1. উৎপাদক:অরণ্যের উৎপাদকরা প্রধাণতঃ তিন প্রকার -
(A) বৃহদাকার বৃক্ষ- যারা অরণ্য ভূমিতে চাদোয়া গঠন করে।
(B) তুলনামূলকভাবে খর্বকায় বৃক্ষ- যারা বৃহৎ বৃক্ষের অন্তবর্তী অঞ্চলে স্বল্প আলোয় জন্মায়।
(C) গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ- যারা আক
ৃ তিতে ক্ষ
ু দ্র এবং বড় বৃক্ষের ছায়ায় জন্মায়। ঝোপের সৃষ্টি করে।
45.
2. খাদক:
A. প্রাথমিকখাদক: এরা শাকাহারী প্রাণী, এদের মধ্যে বিভিন্ন সন্ধিপদ প্রাণী, পিপড়ে, মাছি, ফড়িং, পঙ্গপাল ও
বড় প্রাণীর মধ্যে হাতি, হরিণ, নীলাগাই প্রভৃতি। অরণ্যের মৃত্তিকায় বিভিন্ন প্রকারের কে
ঁ চো, শামুক ও পতঙ্গ
পাওয়া যায়।
B.গৌণ খাদক: সাপ, গিরগিটি, শেয়াল প্রভৃতি। প্রাথমিক খাদকদের খেয়ে জীবনধারণ করে।
C. প্রগৌণ খাদক:খাদ্য স্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রাণী। যথা বাঘ, সিংহ প্রভৃতি।
46.
3. বিয়োজক জীব:বিয়োজক জীবদের মধ্যে ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি প্রধান।
4. অজৈব উপাদান: বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন বিভিন্ন খনিজ পদার্থ,
জল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
47.
সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র
সামুদ্রিকজীব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রধানতঃ সিলেন্টারেটা, স্পঞ্জ ও একাইনোডার্মাটা জাতীয় প্রাণী বেশী দেখা
যায় যেগুলি স্বাদুজলে বিরল। এছাড়া বিভিন্ন প্রকারের ক্রাস্টেসিয়ান, শামুক ও মাছ দেখা যায়। সমুদ্রের
জলে বিভিন্ন প্রকার শৈবাল, ডায়াটম, এককোষী ফ্ল্যাজেলাযুক্ত উদ্ভিদ দেখা যায়। সমুদ্রের উৎপাদকের
মধ্যে বীজ যুক্ত উদ্ভিদ খুব কম (কেবলমাত্র Zostera. উদ্ভিদ দেখা যায়)। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বাদামী ও লাল
শৈবাল সমুদ্রের মুখ্য উৎপাদকের স্থান গ্রহণ করে।
48.
(1) উৎপাদক: বিভিন্নএককোষী শৈবাল, বাদামী, লাল ও সবুজ বহুকোষী শৈবাল, সামুদ্রিক আগাছা প্রভৃতি।
(2) খাদক: সমুদ্রের বিভিন্ন প্রাণীর অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে এগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগকরা যায়।
(I)Zoo Plankton: এগুলি সমুদ্রের জলে ভাসমান প্রাণী। যেমন কপিপড, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি।
(Ii)Benthos: এরা মোটামুটি স্থিরভাবে বাস করে। এদেরকে জোয়ারের উর্ধ্ব অঞ্চল, ভাটার নিম্ন অঞ্চল ও
জোয়ার ভাটার অন্তর্বর্তী অঞ্চলে দেখা যায়। এদের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের কাকড়া, বার্নাকলস, ওয়েস্টারস,
সি অ্যানিমোন প্রভৃতি।
(Iii) Necton: এরা তুলনামূলকভাবে বড় এবং সাঁতার দেওয়া প্রাণী। এদের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের মাছ,
কচ্ছপ, তিমি, শীল প্রভৃতি।
49.
(3) বিয়োজক: সমুদ্রেবিয়োজক জীবদের মধ্যে প্রধানত ব্যাকটিরিয়া ও বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক দেখা
যায়।
4) অজৈব উপাদান: বিভিন্ন ধরনের জৈব ও অজৈব পদার্থ যেমন-
(জল, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, প্রভৃতি এবং এদের বিভিন্ন প্রকারের
যৌগ প্রধান। এছাড়াও অ্যামাইনো অ্যাসিড, হিউমিক অ্যাসিড প্রভৃতি। সূর্য থেকে আগত রশ্মি, তাপমাত্রার
পর্যায়ক্রমিক পরিবর্ত ন প্রভৃতি।
50.
বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যেবিভিন্ন আন্তঃক্রিয়া:
প্রতিযোগিতা
খাদ্য-খাদক সম্পর্ক
পরজীবিতা
সহযোগিতা
51.
বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যেবিভিন্ন আন্তঃক্রিয়া:
1. প্রতিযোগিতা: যখন কমিউনিটির অন্তর্গত কোনো পপুলেশনে খাদ্যের, আলো, জল, বসবাসস্থল ইত্যাদি
সীমিত হয় তখন একই প্রজাতির বা বিষম প্রজাতির সদস্যরা ওইগুলি অধিকার করে বেঁচে থাকার জন্য
যে-সংগ্রাম করে, তাকে প্রতিযোগিতা (Competition) বলে।
প্রতিযোগিতা দু প্রকার যেমন-
অন্তঃপ্রজাতি প্রতিযোগিতা
আন্তঃপ্রজাতি প্রতিযোগিতা
52.
অন্তঃ প্রজাতি প্রতিযোগিতা:একই প্রজাতির অন্তর্গত সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
উদাহরণ: খাদ্যের জন্য বাঘের সঙ্গে বাঘের প্রতিযোগিতা।
আন্তঃপ্রজাতি প্রতিযোগিতা: দুটি ভিন্ন প্রজাতির অন্তর্গত সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
উদাহরণ: খাদ্যের জন্য চিতা ও সিংহের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
53.
2. খাদ্য-খাদক সম্পর্ক:
এই আন্তঃক্রিয়া দুটি প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে একটি প্রজাতির অপরকে মেরে ফেলে ও তাকে ভক্ষণ করে।
এক্ষেত্রে প্রথম প্রজাতিটি হল খাদক (Predator) ও দ্বিতীয় প্রজাতিটি হল খাদ্য (Prey) |
খাদ্য-খাদক সম্পর্ক কে কাজে লাগিয়ে পেস্টের জৈবিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়-
যেমন: লাল গঙ্গাফড়িং নিয়ন্ত্রণে ময়না পাখি ব্যবহার করা হয়। মশার লার্ভ া ধ্বংস করতে গাম্বুসিয়া মাছ
ব্যবহার করা হয়।
এই আন্তঃক্রিয়া খাদকের লাভ হয় এবং খাদ্য হিসেবে বিবেচিত প্রজাতির ক্ষতি হয়।
54.
3. পরজীবিতা: পরজীবিতানামক আন্তঃক্রিয়ায় পরজীবী ও পোষক দুটি ভিন্ন প্রজাতি অংশগ্রহণ করে। এতে
শুধুমাত্র পরজীবীর লাভ হয়।
পরজীবিতা-
বহিঃপরজীবী
অন্তঃপরজীবী
স্থায়ী পরজীবী
অস্থায়ী পরজীবী
হাইপার পরজীবী
সামাজিক পরজীবী
55.
বহিঃপরজীবী: যেসৰ পরজীবীপোষক -কের দেহের বাইরে বসবাস করে, তাকে বহিঃপরজীবী (Ectoparasite)
বলে। উদাহরণ: টিক, মাইট, উক
ু ন ইত্যাদি।
অন্তঃপরজীবী যেসব পরজীবী পোষক- কের দেহের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তাকে অন্তঃপরজীবী
(Endoparasite) বলে। উদাহরণ: ফিতাক
ৃ মি, গোলক
ৃ মি, প্লাসমোডিয়াম, এন্টামিবা ইত্যাদি।
স্থায়ী পরজীবী (Permanent Parasite): যেসব পরজীবী পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য সর্বদাই পোষক- কের
দেহাভ্যন্তরে বাস করে, তাকে স্থায়ী পরজীবী (Permanent Parasite) বলে। উদাহরণ: প্লাজমোডিয়াম।
56.
অস্থায়ী পুবজীবী (TemporaryParasite): যেসব পরজীবী কেবল পুষ্টির জন্য পোষক- কের দেহে বসবাস করে,
কিন্তু অন্যান্য সময় স্বাধীনভাবে বসবাস করে, তাকে অস্থায়ী পরজীবী (Temporary Parasite) বলে। উদাহরণ:
অ্যানোফিলিস মশা।
হাইপার পরজীবী: পরজীবীর ওপর পরজীবীর বসবাস ও তাকে ভক্ষণ করা হাইপার পরজীবীর ধর্ম। উদাহরণ-
মশা-মাছি ইত্যাদি কোন পতঙ্গের লার্ভ ার ওপর ডিম পারে এরপর ডিম ফ
ু টে নির্গত লাভা যার ওপর ডিম পেড়ে ছিল
তাকে খেয়ে ধ্বংস করে ।
সামাজিক পরজীবী: যখন কোন প্রজাতি নানান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য অন্য প্রজাতিকে ব্যবহার করে
তখন তাকে সামাজিক পরজীবী বলে । উদাহরণ -কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে এবং ডিম ফ
ু টে নির্গত বাচ্চার
পরিচর্যা কাকের ওপর বর্ত ায়।
* সামাজিক পরিবেশ:জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষার হার, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃ তি,ধারণা, প্রথা,
রীতি, সামাজিক মূল্যবোধ, আর্থিক স্বচ্ছলতা, পরিচ্ছন্নতা বোধ, যুক্তিসম্মত মনোভাব, নীতিবোধ,
জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, মানুষের সমাজের ধরন, তার জীবিকা, অর্থনৈতিক
ব্যবস্থা, রাজনীতি, সংস্কৃ তি, প্রযুক্তি ইত্যাদি কোন একটি অঞ্চলের সামাজিক পরিবেশকে সূচিত
করে।
দেখা যায়, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার,
দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অপরিচ্ছন্নতা ও ক
ু সংস্কার এর পরিমাণ বেশি হয়; ফলে শিশু মৃত্যুর হার,
মায়েদের মৃত্যুর হার বেশি হয়।
এছাড়াও দূষণের কারণে ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশা বাহিত রোগ; যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি,
ফাইলেরিয়া প্রভৃতি; বিভিন্ন জলবাহিত রোগ – যেমন কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় প্রভৃতি রোগে
আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হয় অর্থাৎ জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হয়।
অর্থাৎ বলা যেতে পারে; সামাজিক পরিবেশ যত উন্নত হয়, জনস্বাস্থ্য তত সুরক্ষিত হয়।
60.
স্থিতিশীল বা সুস্থায়ীউন্নয়ন (Sustainable Development) :
World commission on environment and development (WCED) বা ব্রুটল্যান্ড
কমিশনের মত অনুসারে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর প্রচেষ্টায় কোন বাধা সৃষ্টি না করে
বর্ত মান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য গৃহীত পরিকল্পনাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।
প্রক
ৃ তপক্ষে সুস্থায়ী বা স্থিতিশীল উন্নয়ন বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট হল, প্রাক
ৃ তিক
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক দীর্ঘ মেয়াদী সামগ্রিক মানব
উন্নয়ন ব্যবস্থা। দারিদ্র, অশিক্ষা, বুভুক্ষা, প্রভৃতি আর্থসামাজিক অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্ত
করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হয়।
Q.সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট তত্বেরমাত্রা বা ডাইমেনশন গুলি কি কি:-
সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বা সুস্থায়ী উন্নয়নের ধারণা তিনটি মাত্রা বা ডাইমেনশন এর ওপর
প্রতিষ্ঠিত।
1. পরিবেশ
2. সমাজ এবং
3. অর্থনীতি
63.
Q. এজেন্ডা ২১বা ২১ শতকের কর্মসূচি কি:-
1992 সালে রিও ডি জেনিরো শহরে অনুষ্ঠিত প্রথম বসুন্ধরা সম্মেলন (আর্থ সামিট) এ গৃহীত ২১
শতকের কর্মসূচিকে এজেন্ডা এক
ু শ বলে।
স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য এই কর্মসূচি গুলি চার ভাগে বিভক্ত।
I. সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কর্মসূচি
II. উন্নয়নের জন্য সম্পদের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা
III. প্রতিষ্ঠানগত কর্মসূচি এবং
IV. প্রায়োগিক কর্মসূচি
64.
Q. সুস্থায়ী উন্নয়নবা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের লক্ষ্য গুলি কি কি:-
1. দারিদ্র থেকে মুক্তি (No poverty)
2. ক্ষ
ু ধার অবসান (Zero Hunger)
3. সুস্বাস্থ্য ও ক
ু শলতা (Good health and wellbeing)
4. উন্নত শিক্ষা (Quality education)
5. লিঙ্গ সমতা (Gender Equality)
6. পরিচ্ছন্ন জল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা (Clean water and sanitation)
7. সস্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবস্থা (Affordable and clean energy)
৪. কাজের পরিবেশে উন্নতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন (Decent work and economic growth)
65.
9. শিল্প উদ্ভাবনও পরিকাঠামোর প্রসার (Industry, innovation and infrastructure)
10. অসাম্য কমানো (Reduced inequalities)
11. সুস্থায়ী নগর ও মানব গোষ্ঠী (Sustainable cities and communities)
12. দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন (Responsible consumption and production)
13. জলবায়ুর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ (Climate action)
14. জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের সংরক্ষণ ও সুরক্ষা (Life below water)
15. স্থলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের সংরক্ষণ ও সুরক্ষা (Life on land)
16. শান্তি, সুবিচার ও বলিষ্ঠ প্রশাসন (Peace justice and strong institutions) এবং
17. সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে অংশীদারিত্ব (Partnerships for the goals)
66.
Q. মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্টগোলস কি:-
2000 সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিলেনিয়াম সামিট সম্মেলনে 189 টি দেশ আটটি মূল লক্ষ্য সাধনের
উদ্দেশ্যে যে ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেছেন সেই লক্ষ্য গুলি মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস নামে
পরিচিত।
67.
* লক্ষ্য গুলিহল:
1. চরম দারিদ্র্য ও ক্ষ
ু ধার অবসান
2. সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষার বন্দোবস্ত
3. লিঙ্গ সমতা মজবুত করা
4. শিশু মৃত্যুর হার কমানো
5. মায়েদের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন
6. HIV/AIDS, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগের নিয়ন্ত্রণ
7. পরিবেশকে সুস্থায়ী করা
৪. উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি